Friday, August 29, 2025
Google search engine
Homeটপ 10 নিউসলক্ষ্যভেদে সফল হল অগ্নি ৫

লক্ষ্যভেদে সফল হল অগ্নি ৫

Agni 5 successfully hits target

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষার প্রকোপ নিয়ে গোটা পূর্বভারত জুড়েই উদ্বেগের আবহ। মৌসুমী অক্ষরেখা এখন উত্তরবঙ্গের ওপর সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত, যা আগামী দিনগুলোতে নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, ১৩ই আগস্ট বুধবার থেকেই পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব পড়বে সরাসরি বাংলা ও উড়িষ্যা উপকূলে। ফলে সামনের কয়েকদিন আবহাওয়া পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে চলেছে।

ঘটনার বিবরণ

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের প্রবল সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে উপকূলীয় সমুদ্রে প্রবেশ করা একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, যা পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মানুষও বৃষ্টির প্রভাব থেকে বাদ যাচ্ছেন না। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া ও ঝাড়গ্রামে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৩ থেকে ৯২ শতাংশ থাকায় দক্ষিণবঙ্গের মানুষজন অতিরিক্ত অস্বস্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে।

সরকারি প্রতিক্রিয়া

আবহাওয়া দফতর থেকে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে উপকূলবর্তী এলাকায় সিভিল ডিফেন্স টিম এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় মতামত

উপকূলবর্তী জেলাগুলির মৎস্যজীবীরা এই সতর্কতাকে স্বাগত জানালেও, তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা প্রবল। কারণ সমুদ্রে না গেলে জীবিকা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের এক মৎস্যজীবী জানান, “বর্ষার সময় সমুদ্রে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থাকেই। কিন্তু এই কয়েকদিন রোজগার বন্ধ থাকলে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে যাবে।” অপরদিকে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ বলছেন, বৃষ্টির জন্য জলধারাগুলি ফুলে উঠছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আতঙ্কও বাড়ছে।

বিশ্লেষণ

মৌসুমী অক্ষরেখার অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব মিলিয়েই এই নিম্নচাপের সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণত এ সময়ে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত পাহাড়ি এলাকায় বড় বিপদ ডেকে আনে। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় কাদামাটি সরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা গরমের প্রশান্তি মিললেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি আরও বাড়ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতার বাতাসে আর্দ্রতার সর্বোচ্চ মাত্রা ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে শহরবাসী একদিকে যেমন গরমে হাঁসফাঁস করছেন, অন্যদিকে হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে ভিজে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন। আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ যদি আরও শক্তিশালী হয়, তবে রাজ্যের বহু জেলায় জলবন্দি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি একইরকম থাকার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষত উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। প্রশাসনের মূল দৃষ্টি থাকবে মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে সম্ভাব্য ভূমিধস মোকাবিলায়। শহর কলকাতায় আবহাওয়া পরিবর্তিত হলেও আর্দ্রতা মানুষের অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলবে বলেই পূর্বাভাস।

উপসংহার

বর্ষার মৌসুমে এমন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি নতুন নয়। তবে প্রকৃতির রুদ্ররূপে সাধারণ মানুষের জীবনে ভোগান্তি অবশ্যম্ভাবী। একদিকে মৎস্যজীবীরা জীবিকার অনিশ্চয়তায় দিশেহারা, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের মানুষ আতঙ্কিত ভূমিধস ও জলবন্দি অবস্থার ভয় নিয়ে। দক্ষিণবঙ্গবাসীরও অস্বস্তি বেড়েছে আর্দ্রতা ও গরমে। সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা মেনে চলাই একমাত্র নিরাপদ পথ। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকাটাই এখন বাঙালির মূল চ্যালেঞ্জ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments