After Modi-Mask meeting, good news from Tesla মার্কিন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থা টেসলা অবশেষে ভারতে কার্যক্রম শুরু করতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং এলন মাস্ক-এর সাম্প্রতিক বৈঠকের পরই এই সুখবর এল। দীর্ঘদিন ধরেই টেসলা ভারতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছিল, কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছিল না। তবে এবার সেই জট কাটতে চলেছে, কারণ টেসলা ভারতের দিল্লি ও মুম্বইতে ১৩টি পদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটি শুধু একটি নিয়োগের খবর নয়, বরং ভারতের ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) বাজারের জন্য একটি বড় মাইলফলক।
টেসলার পক্ষ থেকে লিঙ্কডইনে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন অনুযায়ী, দিল্লি ও মুম্বইয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হবে। দিল্লিতে সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং অ্যাডভাইজার পদের জন্য কর্মী নেওয়া হবে, আর মুম্বইয়ে কাস্টমার এনগেজমেন্ট ম্যানেজার এবং ডেলিভারি অপারেশন স্পেশালিস্ট পদের জন্য নিয়োগ হবে।টেসলার ভারতে বিনিয়োগ নিয়ে জল্পনা অনেকদিনের। কয়েক বছর ধরেই সংস্থাটি ভারতে কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছিল, কিন্তু নীতিগত কিছু সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে এবার টেসলা ভারতে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে, যা ভারতের ইলেকট্রিক ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বিশাল সুযোগ।গত বছর লোকসভা নির্বাচনের আগেও টেসলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভারতে আসবেন এবং সম্ভাব্য কারখানার জায়গাগুলি পরিদর্শন করবেন বলে খবর ছিল। এমনকি নির্বাচন চলাকালীন মোদী-মাস্ক সাক্ষাৎ হতে পারে বলেও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতে না এসে মাস্ক চিনে চলে যান, যা নিয়ে অনেক জল্পনা তৈরি হয়— তাহলে কি ভারতে বিনিয়োগের আগ্রহ হারাচ্ছে টেসলা?
কিন্তু সেই সব আশঙ্কা দূর করে, মোদীর সঙ্গে মাস্কের বৈঠকের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ভারতে নিয়োগের ঘোষণা করে টেসলা। এর মানে, টেসলা শুধুমাত্র ভারতে প্রবেশ করতে চায় না, বরং এখানকার বাজারে স্থায়ীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতেও প্রস্তুত।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং এলন মাস্কের বৈঠক বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ইভেন্ট ছিল। বৈঠকের পর মাস্ক নিজেই টুইট করে জানান, “ভারতে বিনিয়োগের বিষয়ে আমরা খুবই আগ্রহী। মোদীজি একজন অসাধারণ নেতা এবং তিনি দেশের ভবিষ্যতের জন্য অনেক ভালো কাজ করছেন।”এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল টেসলার ভারত প্রবেশের রাস্তা মসৃণ করা। ভারত সরকার চাইছে স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে, যাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হয় এবং প্রযুক্তিগত উন্নতি ঘটে। অন্যদিকে, টেসলাও ভারতের বিশাল বাজার ধরতে চায়, কারণ ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ির বাজার।ভারতে ইলেকট্রিক ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে। সরকার ফাস্ট-চার্জিং স্টেশন, ব্যাটারি উৎপাদন এবং ইভি-র জন্য বিশেষ নীতিমালা তৈরি করছে। তাছাড়া, নতুন প্রযুক্তি আনতে হলে ভারতের মতো বিশাল বাজার দরকার, যেখানে কয়েক কোটি সম্ভাব্য গ্রাহক রয়েছে।
ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হলে টেসলা কেবল এখানকার বাজারে বিক্রির জন্যই গাড়ি তৈরি করবে না, বরং এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলেও গাড়ি রপ্তানি করতে পারবে। এর ফলে ভারত বিশ্ব ইভি উৎপাদন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।টেসলার ভারতে আসার একাধিক ইতিবাচক দিক রয়েছে:
বৈদেশিক বিনিয়োগ: টেসলার মতো কোম্পানি ভারতে এলে অন্যান্য বিদেশি কোম্পানিরও এখানে বিনিয়োগ করার আগ্রহ বাড়বে।টেসলা ধাপে ধাপে ভারতে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াবে। প্রথম ধাপে তারা ডিলারশিপ, সার্ভিস সেন্টার এবং কাস্টমার সাপোর্ট টিম তৈরি করবে। তারপর ভারতীয় বাজারের জন্য একটি কম খরচের ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করা হতে পারে, যা সাধারণ ভারতীয়দের নাগালের মধ্যে থাকবে।
এখন প্রশ্ন হলো, টেসলা কি ভারতের বাজার ধরতে পারবে? কারণ ভারতের ইভি বাজারে ইতিমধ্যেই Tata Motors, Mahindra, Ola Electric, এবং MG Motors-এর মতো কোম্পানিগুলো ভালো জায়গা করে নিয়েছে।
নতুন কর্মসংস্থান: টেসলার বিনিয়োগের ফলে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো খবর।
প্রযুক্তিগত উন্নতি: ইভি প্রযুক্তিতে টেসলা বিশ্বে এক নম্বর। ভারতে কারখানা হলে এখানকার তরুণ প্রকৌশলীরা টেসলার উন্নত প্রযুক্তি থেকে শিখতে পারবেন।
পরিবেশগত সুবিধা: ইলেকট্রিক গাড়ি বাড়লে দূষণ কমবে, বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে যেখানে যানবাহনের দূষণ বড় সমস্যা।টেসলা ধাপে ধাপে ভারতে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াবে। প্রথম ধাপে তারা ডিলারশিপ, সার্ভিস সেন্টার এবং কাস্টমার সাপোর্ট টিম তৈরি করবে। তারপর ভারতীয় বাজারের জন্য একটি কম খরচের ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করা হতে পারে, যা সাধারণ ভারতীয়দের নাগালের মধ্যে থাকবে।
এখন প্রশ্ন হলো, টেসলা কি ভারতের বাজার ধরতে পারবে? কারণ ভারতের ইভি বাজারে ইতিমধ্যেই Tata Motors, Mahindra, Ola Electric, এবং MG Motors-এর মতো কোম্পানিগুলো ভালো জায়গা করে নিয়েছে।ভারতে টেসলার জন্য কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে:
প্রতিযোগিতা: ইতিমধ্যেই ভারতের বাজারে বেশ কয়েকটি ইভি কোম্পানি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
মূল্য: টেসলার গাড়িগুলো সাধারণত ব্যয়বহুল। ভারতের বাজারের জন্য যদি তারা একটি সাশ্রয়ী মডেল না আনে, তাহলে বিক্রি বাড়ানো কঠিন হবে।
চার্জিং স্টেশন: ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চার্জিং পরিকাঠামোর অভাব।সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, যদি ভারত সরকার এবং টেসলা একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে ইভি বিপ্লবে ভারত বড় ভূমিকা নিতে পারবে। মোদী সরকার ইতিমধ্যেই “Make in India” এবং “Faster Adoption and Manufacturing of Electric Vehicles (FAME)” প্রকল্প চালু করেছে, যা ইভি বাজারকে বাড়াতে সাহায্য করছে।
এলন মাস্ক নিজেই বলেছেন, “আমরা ভারতে আসতে আগ্রহী এবং আমরা চাই ভারতেও টেসলার প্রভাব তৈরি হোক।”
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, টেসলা এখন ভারতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা ভারতীয় রাস্তায় টেসলার গাড়ি দেখতে পাবো।মোদী-মাস্ক বৈঠকের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে টেসলার ভারতীয় বাজারে প্রবেশের ঘোষণা একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি শুধুমাত্র টেসলার জন্যই নয়, বরং ভারতের ইভি ইন্ডাস্ট্রির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন দেখার বিষয়, টেসলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং ভারতীয় ক্রেতারা এই নতুন প্রযুক্তিকে কতটা গ্রহণ করে।