African leaders are coming to Japan to attend the TICAD conference:বিশ্বের উন্নয়ন ও সহযোগিতার মানচিত্রে আফ্রিকার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ, তরুণ জনশক্তি এবং নতুন বাজারের সম্ভাবনা আফ্রিকাকে আজ বিশ্বশক্তির দৃষ্টি আকর্ষণের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, জাপান—যে দেশ খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতিতে ভুগছে—দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটেই ১৯৯৩ সালে জাপান সরকার প্রথমবার আয়োজন করে টোকিও আন্তর্জাতিক সম্মেলন অন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্টশুরু থেকেই এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকার সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানো এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আফ্রিকার ভূমিকা শক্তিশালী করা। এশিয়ায় জাপানের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী চীন যখন আফ্রিকায় ব্যাপক বিনিয়োগ শুরু করে, তখন থেকেই টিকাড আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।আগামী ২০ আগস্ট, বুধবার, জাপানের ইয়োকোহামা শহরে শুরু হতে চলেছে টিকাডের নবম সম্মেলন। প্রতি তিন বছর অন্তর আয়োজিত এই সম্মেলন বর্তমানে এশিয়া-আফ্রিকা সম্পর্কের এক বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে। এবারের সম্মেলনে আফ্রিকার অধিকাংশ দেশের শীর্ষ নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ মন্ত্রীগণ উপস্থিত থাকবেন বলে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
শুধু আফ্রিকান দেশই নয়, পাশাপাশি জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। ফলে এটি এক বৈশ্বিক পরিসরে অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক আলোচনার মঞ্চে পরিণত হবে।জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফ্রিকান নেতাদের স্বাগত জানানোর সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। বেশিরভাগ প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রনেতা ১৯ আগস্ট টোকিও পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।জাপান সরকার টিকাডকে কেবল কূটনৈতিক অনুষ্ঠান হিসেবেই দেখছে না, বরং এটি আফ্রিকার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন—“আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সম্পদ বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ নয়, আমরা চাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো ক্ষেত্রেও টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠুক।”সরকারি সূত্র আরও বলছে, জাপান আফ্রিকান দেশগুলির অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়, যাতে উভয় মহাদেশই পরস্পরের উপর নির্ভরশীল এক নতুন অর্থনৈতিক জোটে পরিণত হতে পারে।ইয়োকোহামার স্থানীয় জনগণ এবং ব্যবসায়ী মহল সম্মেলন ঘিরে যথেষ্ট আশাবাদী। তাদের মতে, এতগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও আফ্রিকার নেতাদের উপস্থিতি শহরের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অনেক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলছেন, আফ্রিকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়লে জাপানি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলিও নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা জাপানের জন্য জরুরি হলেও, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে মোকাবিলা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে এবারের সম্মেলনকে অনেকে জাপানের জন্য একপ্রকার পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবেও দেখছেন।আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল মহাদেশগুলির মধ্যে অন্যতম। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে আফ্রিকার জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ২৫০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এ বিপুল মানবসম্পদ ও বাজারের সম্ভাবনা বিশ্বের উন্নত দেশগুলিকে আকৃষ্ট করছে।অন্যদিকে, জাপানের শিল্পোন্নত অর্থনীতি বহুলাংশে নির্ভরশীল বাইরের দেশ থেকে আমদানি করা সম্পদের উপর। আফ্রিকার খনিজ সম্পদ—বিশেষ করে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কোবাল্ট ও লিথিয়াম—জাপানের প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা জাপানের অর্থনৈতিক কৌশলের অঙ্গ।তবে, আফ্রিকায় চীনের আগ্রাসী বিনিয়োগ ইতিমধ্যেই বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছে। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে মহাদেশটির রেল, সড়ক, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হয়েছে। তুলনায় জাপান অপেক্ষাকৃত নরম কূটনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যেখানে তারা উন্নয়ন সহযোগিতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই বৈপরীত্যই টিকাডকে বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে।