Saturday, August 30, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যআবহাওয়াআজ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জেলায়-জেলায়!

আজ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জেলায়-জেলায়!

Heavy rain forecast in all districts today!:বৃষ্টির খোঁজ যেন কোনোভাবেই থামছে না। শনিবারের এই দিনে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজও বৃষ্টি চলবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা জুড়ে। মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে বৃষ্টির বোধহয় কোনো শেষ নেই, বিশেষত হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, দুই বর্ধমান, দুই মেদিনীপুর, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, বীরভূম, বাঁকুড়া—এইসব জেলার মানুষ আজ বৃষ্টির শিকার হতে চলেছেন। কিছু কিছু জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। যা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি যেমন মনোরম, তেমনি কখনও কখনও বিপদ ডেকে আনে। এই বৃষ্টির প্রভাবে রাস্তার জলজমে থাকা, ভেঙে পড়া গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত ফসল—এই সবই মানুষের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল। গত কয়েক সপ্তাহে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকেরা আশা করেছিলেন যে এই বর্ষা একটু বেশি মাত্রায় আসবে, কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টি সবসময় কার্যকর হয় না, বরং কিছু এলাকায় ফসলের ক্ষতিরও কারণ হতে পারে।

আবহাওয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ রবিবার উত্তরবঙ্গের চারটি জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার—এখনো ভারী বৃষ্টির শিকার হবে। এই অঞ্চলের মানুষদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টি সহ ধ্বংসাত্মক ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা গাছপালা ভেঙে ফেলতে পারে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত করতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোর জন্য এই বৃষ্টির দিনগুলোতে বিশেষ সতর্কতা প্রযোজ্য। পাহাড়ে বৃষ্টি হলে landslides বা ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

এদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টি নিয়ে তেমনই দুশ্চিন্তা। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, বাঁকুড়ার মতো বড় এলাকাগুলো আজ বৃষ্টির কবলে পড়ে। সেই সঙ্গে পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, বীরভূমেও বৃষ্টির কারণে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষত জেলা পুলিশ, বিভিন্ন সড়কে অতিরিক্ত জল জমে যাওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা জারি রেখেছে। বৃষ্টির কারণে সাধারণত স্কুল, অফিসসহ অন্যান্য জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও, বৃষ্টি চলাকালীন যে ধরনের ঝড়ো হাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে বইতে পারে। এই ধরনের দমকা হাওয়ার কারণে বাড়ির ছাদে থাকা টিনের পাত বা অস্থায়ী বিল্ডিংয়ের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরোনোর আগে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, কৃষকেরা তাদের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় বিরক্ত। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়কগুলিতে জল জমে থাকলে দুর্ঘটনা বাড়তে পারে।

monsoon over kolkata

মোটকথা, এই শনিবারও আবার ঝামেলার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বৃষ্টি থেকে কৃষি কাজের ক্ষতি হলেও, এটা একদিকে পর্যটন এবং পরিবেশের জন্য বেশ উপকারী। জলা জমে থাকা এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষিত হয়। তবে সড়ক যোগাযোগে যত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ততই মানুষের জন্য ভালো। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে পূর্বাভাস অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। আগাম সতর্কতা গ্রহণ করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীর দত্ত বলেন, “এটা যদি সপ্তাহে একবার হয়, তাও মোটামুটি, কিন্তু এত বেশি বৃষ্টির কারণে বাড়ির ছাদে পানি জমে যাওয়া, সড়কে জল থৈথৈ—এইসব ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।” অন্যদিকে, একজন কৃষক, সুকুমার মাহাতো বলেন, “আমাদের ফসল ঠিক মতো হয়েছে, কিন্তু এই অতিরিক্ত বৃষ্টি আছড়ে পড়লে ফসলের অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাবে।”

একদিকে বৃষ্টির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে শহরের সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই অবস্থায় প্রশাসনের সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments