Putin is coming to India at Modi’s invitation:গাজা উপত্যকা আজ এমন এক মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী, যা ইতিহাসে বহুদিন মনে রাখা হবে। খাদ্যের অভাব, ওষুধের অভাব, পানির সংকট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেন দমবন্ধ করা পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার সতর্ক করলেও বাস্তবে ত্রাণ পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ মরিয়া হয়ে খাবারের সন্ধানে ছুটছে, কেউ ত্রাণ শিবিরে, কেউ আবার হাসপাতালের দ্বারস্থ হচ্ছে সামান্য চিকিৎসার আশায়। কিন্তু সেই হাসপাতালই আজ পরিণত হয়েছে মৃত্যুর ময়দানে।সোমবার ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হল গাজার নাসের হাসপাতাল। ঠিক যখন আহত ও অসুস্থ মানুষরা সেখানে চিকিৎসার অপেক্ষায়, তখন ইসরায়েলি সেনা ওই হাসপাতালেই হামলা চালায়। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন সাংবাদিকও রয়েছেন। মৃত্যুর তালিকায় রয়েছেন রয়টার্স-এর কর্মী হাতমে খালেদ এবং আরও একজন ফটোগ্রাফার।ত্রাণের আশায় যে মানুষগুলো হাসপাতাল কিংবা এর আশেপাশে ভিড় জমিয়েছিল, তাদের অনেকে মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালের দেয়ালে রক্তের ছাপ, চারদিকে কান্নার শব্দ—এমন এক দৃশ্য তৈরি হয়, যা মানবতার ইতিহাসে কলঙ্ক হয়ে থাকবে।প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের নামে যেভাবে হাসপাতালকেও নিশানা বানানো হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার পরিপন্থী।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হামাস সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে। তাদের বক্তব্য, গাজা শহরে অভিযান চালানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। যদিও এই যুক্তি কোনওভাবেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বা মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলির কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না।গাজার সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। তারা জানাচ্ছেন, কোথাও নিরাপত্তা নেই। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালালে ক্ষুধা-মৃত্যু, আবার হাসপাতালে গেলেও বোমার আঘাতে মৃত্যু। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “আমরা আর কোথায় যাব? ঘরে থাকলে ক্ষুধায় মরি, বাইরে বেরোলেই বোমায় মরি। এখন হাসপাতালও আমাদের রক্ষা করতে পারছে না।”
ত্রাণের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের মধ্যেও আতঙ্ক স্পষ্ট। এক মা জানালেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে ওষুধ খুঁজতে এসেছিলাম হাসপাতালে। কিন্তু এখানেই জীবন শেষ হয়ে গেল অনেকের।
”চলমান সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ—কারও রেহাই নেই। গাজার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে যে অক্সিজেন, ওষুধ বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকার কথা, তা আজ অপ্রতুল। তার ওপর যদি বোমা হামলা হয়, তবে মানুষের আর ভরসা করার জায়গা কোথায়?বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমালোচনার ঝড় উঠলেও কার্যত কোনও বাস্তব পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। যদিও ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইক জমির ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছেন হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি করার জন্য। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ নিলে অন্তত ৫০ জন পণবন্দিকে ফেরানো সম্ভব হবে এবং যুদ্ধ শেষ হতে পারে। কিন্তু নেতানিয়াহু এখনও পর্যন্ত সমঝোতার পথে হাঁটেননি।
আন্তর্জাতিক মহল অপেক্ষা করছে—আলোচনা নাকি আরও রক্তপাত, কোন পথে যাবে এই সংঘাত।