Saturday, August 23, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যনতুন চমক, বিশালাকার ‘তিলক প্রবেশদ্বার’ তৈরি হচ্ছে অযোধ্যায়

নতুন চমক, বিশালাকার ‘তিলক প্রবেশদ্বার’ তৈরি হচ্ছে অযোধ্যায়

New surprise, a giant ‘Tilak Gateway’ is being built in Ayodhya: অযোধ্যা—রামায়ণ যুগের স্মৃতিবাহী এক পবিত্র শহর, যেখানে প্রতিটি গলি, প্রতিটি মন্দির আর প্রতিটি উৎসব ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া বহন করে। বিগত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশ সরকার, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে, অযোধ্যাকে বিশ্বমানের ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। রাম মন্দির নির্মাণ থেকে শুরু করে রিভারফ্রন্ট উন্নয়ন, ঘাট সংস্কার—সবকিছুই চলছে এক মহাযজ্ঞের অংশ হিসেবে। এর মধ্যেই এসেছে নতুন এক ঘোষণা—পঞ্চকোশি পরিক্রমা মার্গে হনুমান গুফার কাছে নির্মিত হচ্ছে বিশালাকার ‘তিলক প্রবেশদ্বার’।‘তিলক প্রবেশদ্বার’-এর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে অযোধ্যা ডেভলপমেন্ট অথরিটি। জানা গেছে, প্রায় ১.৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রবেশদ্বার তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে, এবং দ্রুত গতিতে চলছে বাকি অংশের কাজ। এই গেটের নকশায় মিলেছে প্রাচীন মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তির অনন্য মিশ্রণ।

গেটটিতে রামায়ণ যুগের বিভিন্ন প্রতীক ও ঐতিহ্যবাহী কারুকার্য ফুটে উঠবে। থাকবে সূক্ষ্ম পাথরের কাজ, ভাস্কর্য স্তম্ভ এবং বিশেষ আলোকসজ্জা। শুধু তাই নয়, প্রবেশদ্বারের চারপাশে তৈরি হবে নান্দনিক বাগান, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, এটি যেন শুধু একটি প্রবেশদ্বার নয়—বরং অযোধ্যার এক নতুন দর্শনীয় স্থান হয়ে ওঠে।মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে অযোধ্যার সার্বিক উন্নয়নের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, এই প্রকল্প তারই অংশ। সরকার জানিয়েছে, শ্রীরাম জন্মভূমি এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি আস্তা পথ, ভক্তি পথ, জনসুবিধা কেন্দ্র, ডিজিটাল সূচক, রিভারফ্রন্ট উন্নয়ন এবং ঘাট সংস্কারের মতো একাধিক প্রকল্প একযোগে এগিয়ে চলেছে। সরকারি সূত্রে খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ‘তিলক প্রবেশদ্বার’ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।অযোধ্যার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে প্রবল উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, এটি শহরের সৌন্দর্য বাড়াবে, আবার পর্যটকদের কাছে একটি নতুন আকর্ষণ হিসেবে ধরা দেবে। পঞ্চকোশি পরিক্রমায় অংশ নেওয়া ভক্তদের জন্য এটি হবে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। হনুমান গুফার পথে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল গেট, তাদের যাত্রায় যেন এক আধ্যাত্মিক সূচনা এনে দেবে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, নতুন পর্যটন অবকাঠামো তৈরি হলে হোটেল, দোকান এবং অন্যান্য পরিষেবার চাহিদা বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।

9702

অযোধ্যা ভারতের ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র। প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্ত ও পর্যটক এখানে আসেন। ‘তিলক প্রবেশদ্বার’ কেবল একটি স্থাপত্য নয়, বরং অযোধ্যার ধর্মীয় গর্বের প্রতীক হতে চলেছে। শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা, অযোধ্যাকে বিশ্ব মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করবে।পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে শহরে একের পর এক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে, তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই অযোধ্যা আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।যদি পরিকল্পনা মতো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ‘তিলক প্রবেশদ্বার’ উদ্বোধন হয়, তবে এটি রাম মন্দির উদ্বোধনের পর শহরের দ্বিতীয় বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

whatsapp image 2024 02 05 at 17.11.33

পঞ্চকোশি পরিক্রমা রুটে ভক্তরা এই প্রবেশদ্বারকে একটি বিশেষ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে গ্রহণ করবেন, এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।এছাড়াও, সরকার যদি প্রবেশদ্বারের চারপাশে পর্যাপ্ত সুবিধা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে, তবে এটি বহু বছর ধরে অযোধ্যার এক অনন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে।‘তিলক প্রবেশদ্বার’ শুধু একটি গেট নয়—এটি অযোধ্যার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় মহিমা ও সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এই মেলবন্ধন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অযোধ্যার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। অযোধ্যা শহর তার অতীতের গৌরব ধরে রেখেই এগোচ্ছে নতুন দিনের পথে, আর ‘তিলক প্রবেশদ্বার’ সেই যাত্রার এক অনন্য চিহ্ন হতে চলেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments