Junk food in daily diet? Bringing deadly diseases to the future : আজকের ‘খবর বাংলা’-র সম্পাদকের চোখে— এক অধ্যাপক বা পুষ্টিবিদের বক্তৃতা নয়, যা আমি শোনাচ্ছি, তা আপনার, আপনার পরিবার, আপনার সন্তান এবং আমাদের সমাজের ভবিষ্যত নিয়ে খেলা করা আসন্ন বিপদের গল্প।গতকাল আনন্দবাজার-এ ‘নিয়মিত বাইরে খাওয়া, কলস্থ ফাস্ট ফুড কেমন বিপদ ডেকে আনছে’— শিরোনামে বিস্তারিত লেখা ছাপা হয়েছে; পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী বলেন, “এই ধরনের খাবারে ব্যবহৃত থাকে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রায় ক্যালোরি, ট্রান্স-ফ্যাট, রিফাইন্ড সুগার— যা ওজন, হজম, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা সবকিছুই বাড়িয়ে দেয়, হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়” । এর পাশাপাশি, IAP-র সর্বশেষ সমীক্ষা দেখিয়েছে যে আমরা দেশজুড়ে হিমশিম খাচ্ছি— ৪-১০ বছর বয়সিদের দৈনিক চিনির খাওয়ার পরিমাণ WHO-র সুপারিশকৃত সীমা ছাড়িয়ে প্রস্তাবিত ৫-৭ চামচের বদলে ২০-২৫ চামচ— অর্থাৎ প্রাণঘাতী পরিমাণে ।
বিশ্বজোড়া গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার আমাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৫০% বাড়িয়ে দিতে পারে, পাশাপাশি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, হৃদরোগ, মানসিক সমস্যা, ক্যান্সার—প্রায় ৩০টি থেকে বেশি রোগের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে। এই ‘খাবার’গুলো কী! একদিকে সুস্বাদু, আর অন্যদিকে— চুপ করে মারণব্যাধি ডেকে আনছে।“আমাদের যত্নের বাইরে থেকে এক বোতলে বা প্যাকেটে নেমে এসেছে বিপদ,”— ভাবুন, শিশুটি যেখানে চোখ মেলে তাতে বিজ্ঞাপনে মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়ায়, গেমে, মাঝে মাঝেই জাঙ্ক ফুডের লোভ ছড়ায়। গবেষণা বলছে, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো অ্যাপে প্রচার আর বিজ্ঞাপনই “বিজ্ঞাপনী খিদে” তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। ফল হল— আমাদের শিশুরা আরেক-একবার মুঠোয় খাবারের অর্ডারে স্বাচ্ছন্দ্য পাকড়ে ফেলেছে।

এখন ভাবুন— আপনার বাড়ির ছোট্ট শিশুটি আমন্ত্রণ জানায় বার্গার-ফ্রাই-কেক-অন্য জাঙ্ক-ফুডে; বাইরে থেকে ফেলে দেওয়া এক একটা খাবারে সে ভুলতে বসে নিজস্ব খাবারের পুষ্টি, নিজস্ব রুটি-শাক-ফল। এই সাধারণ-মনে হাওয়া জীবন, আসলে দীর্ঘমেয়াদি বিপদ গড়ে তুলছে: স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, ক্যান্সার, ত্বকের সমস্যা, মানসিক অসুস্থতা— এমনকি মৃত্যুও। উচ্চ তাপমাত্রায় তেলে ভাজা খাবার, চিনি-লবণ-চর্বিত প্যাকেট খাবার— সবই র একাধিক ঝুঁকির হাতকড়া ।অন্যদিকে আমাদের সমাজে, বিশেষ করে শহুরে অংশে, খাদ্যাভ্যাস পাল্টাচ্ছে দ্রুত; জনমানসে ‘রেডি-টু-ইট, ঝটপট, টেস্টি’ খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে—Convenience এর দাম কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যত! ICMR- ও Lancet-এর তথ্য বলছে, প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ভারতীয় ডায়াবেটিসে ভুগছে, এবং আরও ১.৩৬ কোটি ‘প্রিডায়াবেটিস’-এ— এটি ১৫.৩% জনসংখ্যা! ।

স্থানীয়ভাবে, বাংলার শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত। অনেকে বাড়িতে রান্না পছন্দ কমিয়ে বাইরে ঝুঁকছে, ডেলিভারি-এ সপ্তাহে দুই-তিনবার খাবার যাচ্ছে ভাঁজ হাগিয়ে; পুষ্টির ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের বিপদ বাড়ছে । পুষ্টিবিদদের মতে, বাড়িতে রান্নাকরা খাবারে রাখা উচিত সালাদ, শাক-সবজি, ফল, ফাইবার— এগুলো ত্বকেরও যত্ন নেবে আর স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখবে।এখন বলবো: আমাদের এখানেই যেতে হবে বদলের পথে। সরকারি, স্বাস্থ্য প্রশাসনিক স্তরে টানা সমর্থন চাই; স্কুল-কলেজে ‘চিনি বোর্ড’, জাঙ্ক-ফুড-বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ, শিশুমনে খারাপ অভ্যাস গড়ে উঠার আগেই সচেতনতা তৈরি। আমাদের সমাজ, পরিবার সবাই মিলে “বিজ্ঞাপনী খিদে” থেকে শুরু করে “রেডি-টুও-ইট” খাওয়ার নেশা— এসব বন্ধ করতে সচেতন হতে হবে।

ব্যক্তিগতভাবে, পুষ্টিবিদ শম্পা বলে দিয়েছেন: “ মাঝেমধ্যে, মাসে ২-৩ বার পরিমিত পরিমাণে বাইরে-খাওয়া চলে, কিন্তু সন্তানে ছোট থেকেই যদি সচেতনতা তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা ঠেকানো সম্ভব” । একে চিকিৎসা নয়, এটি জীবন-রক্ষা অভিযানের সূচনা।এই হলো আমাদের গল্প— আপনাদের গল্প। আপনার শিশুকে, আপনার পরিবারকে, আমাদের সমাজকে ‘নিজস্ব খাবার, নিজের পরিচর্যায়’ বাঁচাতে হলে আজই সেই পদক্ষেপ শুরু করতে হবে।