Special message on Rakhi, Divyangjans are becoming self-reliant!:-তমলুকের নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতির আবাসিক দিব্যাঙ্গরা যেন এক নতুন উৎসব তৈরি করে দিয়েছেন—রাখীবন্ধনকে সামাজিক সচেতনতা ও স্বনির্ভরতার মঞ্চে বদলে। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি, তবু তারা রাতদিন এক করে ব্যস্ত—রঙ তুলি, পাট, লেশ, দড়ি মিশিয়ে তৈরি করছেন পরিবেশবান্ধব ও বার্তা সমৃদ্ধ রাখী। কেউ দৃষ্টিহীন, কেউ হাঁটতে পারেন না, কারওর দৈহিক বিকাশ হয়নি, আবার কারোর দুটো হাতের একটাও নেই—তবুও তারা নিজেদের মনের জোরে, এক একটি রাখীতে ফুটিয়ে তুলছেন ‘অপারেশন সিন্দুর’, ‘নাবালিকা বিবাহ রোধ’, ‘নেশামুক্ত ভারত’, ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’, ‘জলসংরক্ষণ’ সহ নানা সামাজিক বার্তা। এইসব রাখী শুধু সাজানো নয়, বার্তাও বহন করছে, সম্প্রীতির উৎসব পালন করছে—এটাই তাদের আনন্দ। হোমের পরিচালকদের কথায়, পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে এবার প্রায় ৭০ হাজার রাখী তৈরি হচ্ছে, যা মাত্র তমলুক নয়, পার্শ্ববর্তী জেলার বাজারেও পৌঁছাবে; এতে তাদের কাজে অর্ডার বাড়ছে, স্বনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে তারা। দু손হীন এক শিল্পী হাসিমুখে জানালেন, ‘‘আমার হাত নেই, তবু আমি রাখী বানাই, কথা বলে বার্তা প্রচার করি। এই উৎসব আমাদের জীবনের গর্ব।’’

এই উদ্যোগ স্থানীয় সম্প্রদায়ে কেবল আনন্দই নয়, আত্ম-মর্যাদা ও আত্মসম্পৃক্তিও জাগিয়েছে। সাধারণ মানুষ রাখী কিনছেন মাত্রই, মাসেসম তা নিয়ে কথা হচ্ছে—‘এই রাখী যে শুধু বন্ধন নয়, সামাজিক বার্তা–এগুলো না কম সামাজিক দায়িত্ব।’ এক গ্রামবাসী বললেন, “রাখী যেমন সুন্দর, তেমনি তাতে লেখা সামাজিক বার্তাও ভাবায় আমাদের—নেশা ত্যাগ, সেফ ড্রাইভ, মেয়েদের অধিকার ইত্যাদি।” হোমের শিক্ষক মধুমিতা বেড়া বলেন, “প্রতিদিন দেখছি কত অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন তাঁরা এই কাজ করে; নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, নিজের হাতে তৈরি করে রাখীরা বিক্রি করছেন আর গর্ব করছেন, ব্যবহৃত হচ্ছেন।” আছে শারদীয়ার আগাম শুভেচ্ছা লেখাও—দিব্যাঙ্গরা রাখীবন্ধনের নামেই শুভেচ্ছা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।এই initiative শুধু তমলুকজুড়ে নয়—দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বর্তমানে differently abled মানুষদের self‑reliance এর ওপর জোর দিচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার সহ রাজ্যগুলোতে schemes যেমন CM Laghu Udhyami Yojana বা Divya Kala Mela-র মতো উদ্যোগে দিব্যাঙ্গজনদের ব্যবসা শুরু ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের নিমতৌড়িতে এই রাখী প্রজেক্ট সেই জাতীয় স্বনির্ভরতার আদর্শ উদাহরণ।
তবে শুধুই উৎসব-উন্নয়ন নয়, এই কর্মকাণ্ড জীবনে একটি দারুণ মনস্তাত্ত্বিক শক্তি এনে দিচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ হাঁটতে পারেন না, কেউ হাতজড়িত হলেও মন বন্ধন শক্ত রেখেছে—মনের শক্তিতে সবার আগে এগিয়ে চলেছে তারা। এই হাঁটতে অক্ষম, হাতহীন শিল্পীরা নিজদের শক্তির পরিচয় তুলে ধরছেন—‘আমি বিশেষ নয়, আমি সক্ষম।’ এক শিল্পী বললেন, “যখন কেউ আমার রাখী পড়ে, তখন মনে হয় আমার মনের কথা সে বুঝছে, আমার পরিশ্রম সে দেখছে।”

এই সব উদ্যোগের ভবিষ্যৎ ইম্প্যাক্টও অবশ্য দূরপ্রসারী হতে পারে—প্রথমত, হোমের নিবাসীরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারবে। যাদের আগে বলা হত তারা অক্ষম, আজ বলছে—তারা সক্ষম। দ্বিতীয়ত, এই ধরনের সামাজিক বার্তা সংযুক্ত রাখী সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে পয়সাদার প্রচার। তৃতীয়ত, এবারের সাফল্য দেখেই ভবিষ্যতে অন্য হোম, অন্য জায়গায়ও রাখী তৈরি হতে পারে কিংবা অন্যান্য হস্তশিল্পে এগিয়ে আসা যেতে পারে। তৃণমূল কিংবা তামাম রাজ্য সরকারের কাছে একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত—যখন সরকার বা এনজিও সহায়তা দেয়, প্রান্তিক মানুষরাও স্বাবলম্বী হতে পারে, সমাজ পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারে।

তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে—প্রথমত, সরকারের ও সমাজের তরফে আর্থিক মানদণ্ডে সহযোগিতা না থাকলে এই উদ্যোগ কত দীর্ঘজীবী হবে তাতে প্রশ্ন। দ্বিতীয়ত, বাজারে সাধারণ রাখীর সস্তা কপিসির সঙ্গে এই বার্তাবহ রাখীর প্রতিযোগিতা করা কঠিন হতে পারে। তাই দেখার বিষয়, সামনের বছর কীভাবে এই উদ্যোগকে institutionalise বা scale up করা যায়।সব মিলিয়ে, এই রাখী তৈরির উদ্যোগ শুধু রাখীবন্ধনের অংশ নয়, বরং একজন ব্যক্তির জীবনধারার অংশ হয়ে উঠছে—সমাজ সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস, স্বনির্ভরতা আর মানসিক উন্নয়নের ধারায় ভিন্ন মাত্রায় প্রবেশ করে। তমলুকের নিচতলার এই শিল্পীরা যেন একটি গান গাইছে—‘ঘুমিয়ে থাকা স্বপ্নগুলো জেগে উঠুক’। এই রাখী শুধু বন্ধনের প্রতীক নয়, সচেতনতাবহ বার্তার বাহক, শক্তিকে আত্মবিশ্বাসে পরিণত করার উৎস।