Big decision by the Education Department, college admission deadline extended : এই বছর কলেজে ভর্তির মরসুমে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে যেন একটু স্বস্তির হাওয়া বয়ে আনল রাজ্য সরকারের এক বড় সিদ্ধান্ত। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি ঘোষণা করে জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দফার অনলাইন ভর্তির সময়সীমা বাড়ানো হল ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কেউ সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।” রাজ্যের ১৭টি সরকার পোষিত বিশ্ববিদ্যালয় ও ৪৬০টি সরকারি ও সরকার-পোষিত কলেজে এবার কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে, যা শিক্ষার ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই অনলাইন ভর্তির পোর্টাল চালু হওয়ার মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪২ জন ছাত্রছাত্রী নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং মোট ১৮ লক্ষ ২৪ হাজার ৯১৪টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৯০১ জন পড়ুয়া ভিন্ রাজ্যের। এই বিশাল সংখ্যার আবেদন থেকেই বোঝা যাচ্ছে পড়ুয়াদের মধ্যে কতটা আগ্রহ রয়েছে এবং ঠিক সেই সময়েই রাজ্য সরকারের এই সময়সীমা বৃদ্ধি তাদের কাছে যেন একরকম আশার আলো। বহু গ্রামীণ অঞ্চলের ছাত্রছাত্রী যারা এখনো হয়তো নিজের মার্কশিট সংগ্রহ করতে পারেনি, বা নেটওয়ার্ক সমস্যা বা আর্থিক কারণে আবেদন করতে পারেনি, তারা এবার আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের এক উচ্চমাধ্যমিক পাশ ছাত্রীর কথায়, “আমি একটা দিন ইন্টারনেট না থাকায় আবেদন করতে পারিনি, ভাবছিলাম এই বছর হয়তো মিস হয়ে যাবে। এখন সময় বাড়ায় আমি আবার চেষ্টা করতে পারব।” আবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের এক অভিভাবক বললেন, “সরকার যদি সময় না বাড়াত, তাহলে অনেকেই ভর্তির সুযোগ পেত না। এটা খুব ভাল সিদ্ধান্ত।” এই সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে আরও অনেক ছাত্রছাত্রী সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে এবং প্রাইভেট কলেজ বা অসাধু মিডিয়েটরের চাপে পড়তে হবে না বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা। কলকাতার এক কলেজ অধ্যক্ষের মতে, “এই বছর ভর্তির নিয়ম অনেকটা সরল হয়েছে, কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে সবাই একসাথে আবেদন করতে পারছে, আর সময় বাড়ার ফলে আরও অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী সুযোগ পাবে।” উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায়, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এই কেন্দ্রীয় পোর্টাল চালু হওয়াতে ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সমতা বজায় থাকছে, কোনও একাধিক আবেদন বা ভুয়ো নাম নথিভুক্তির ঘটনা কমছে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও থেকেই যাচ্ছে—যেমন কিছু প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা এখনো অনলাইনে আবেদন করতে পারছে না, নেটওয়ার্ক ও মোবাইল ডেটা সমস্যায়। সেই কারণে স্থানীয় স্কুল বা ব্লক অফিস থেকে আরও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই CSC (Common Service Center)-গুলিকে বলা হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে এবং ব্লক প্রশাসনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে। এই বছর উচ্চমাধ্যমিকে পাশ করেছে প্রায় ৮.৭ লক্ষ ছাত্রছাত্রী। তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ সরকারি কলেজে ভর্তি হতে চায়, কারণ সেখানে টিউশন ফি কম, হোস্টেল সুবিধা রয়েছে এবং ভালো মানের শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে আরও ২ থেকে ৩ লক্ষ নতুন আবেদন জমা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন প্রয়োজন মতো আসন সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেধা তালিকা প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। ভবিষ্যতে যদি এই কেন্দ্রীয় পোর্টাল ব্যবস্থা আরও মজবুত হয়, তাহলে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে একটা স্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব ছাত্রছাত্রী চাকরির পাশাপাশি বা পরিবার চালিয়ে পড়াশোনা করতে চায়, তারা অনলাইনে ভর্তি হতে পারলে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচাতে পারবে। একদিকে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ যেমন ছাত্রছাত্রীদের ভরসা জুগিয়েছে, অন্যদিকে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর মতে, “আমরা চাই প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী যাতে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পায়। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।” এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রকের এই ঘোষণার পর বিভিন্ন কলেজে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে তথ্য জিজ্ঞাসা ও সহায়তা নিতে, আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রশংসার ঝড় উঠেছে। সবমিলিয়ে বলা যায়, শিক্ষাক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি সময়সীমা বাড়ানো নয়, বরং একটি বড় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন—যেখানে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই হয়তো বলা যায়, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক নোটিস নয়, বরং হাজার হাজার স্বপ্নের পথ সুগম করার ঘোষণা।