Tuesday, August 26, 2025
Google search engine
Homeঅন্যান্যগাজা দখলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এককাট্টা ২০ মুসলিম দেশ

গাজা দখলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এককাট্টা ২০ মুসলিম দেশ

20 Muslim countries unite against decision to occupy Gaza:প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েলের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ কয়েক দশকের পুরনো। ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই ভূমি, অধিকার, এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। গাজা উপত্যকা, যেটি ভৌগোলিকভাবে ছোট হলেও রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বহুবার এই সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। বর্তমানে গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস, যাদের সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্ক চরম বৈরী। এই পরিস্থিতিতে, ইজরায়েলের নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের তরফে গাজা দখলের অনুমোদন দেওয়া নতুন করে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে।গত ৮ আগস্ট ইজরায়েলের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট আনুষ্ঠানিকভাবে গাজা দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন দেয়। এর ফলে সেনারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। ইজরায়েলের দাবি, গাজার সবচেয়ে বড় শহরে হামাস জঙ্গিরা শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসেছে, যা হামাস প্রধানের প্রধান সদর দপ্তর হিসেবেও পরিচিত। এই অঞ্চল দখল করে তারা হামাসের সামরিক ক্ষমতা ধ্বংস করতে চায়। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, জর্ডনসহ মোট ২০টি মুসলিম দেশ যৌথভাবে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তারা একযোগে বিবৃতি দিয়ে জানায়, এটি “বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক” সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক বৈধতার বিরুদ্ধে একতরফা পদক্ষেপ। মিশর ও সৌদি আরব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এটি প্যালেস্টিনীয় জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না। অন্যদিকে রাষ্ট্রসংঘও এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।গাজায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ এই খবরে আতঙ্কিত। বহু পরিবার ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য সংঘর্ষের ভয়ে এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের মতে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে গাজার মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলিও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই পদক্ষেপের ফলে বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে এবং খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েলের এই পদক্ষেপ শুধু যে প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলবে তা নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকেও চ্যালেঞ্জ জানাবে। অতীতে এমন পদক্ষেপের ফলে আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসার ঘটেছে।

70635016 605

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০ মুসলিম দেশের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ইজরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে ইজরায়েল যদি গাজা দখলের পথে এগোয়, তাহলে এটি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও, এই উত্তেজনা তেলের দাম বৃদ্ধির মতো প্রভাব ফেলতে পারে যা বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়া দিতে সক্ষম।আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ইজরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর। যদি ২০ মুসলিম দেশের যৌথ বিরোধিতা আরও জোরালো হয়, তবে ইজরায়েল হয়তো তার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, যদি ইজরায়েল দৃঢ়ভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন দফার রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments