14 Indian fishermen arrested in Sri Lanka:ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে তামিলনাড়ু উপকূল ও শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের মাঝের সমুদ্রপথে দুই দেশের মৎস্যজীবীরা প্রায়শই সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগের মুখে পড়েন। এই অঞ্চল ঘনঘন মৎস্যচাষের জন্য পরিচিত হলেও, আন্তর্জাতিক জলসীমা নির্ধারণের জটিলতা এবং দুই দেশের আইন প্রয়োগের ভিন্নতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে প্রায়ই ভারতীয় মৎস্যজীবীদের শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে।বুধবার ফের সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী অভিযোগ তুলেছে যে, ১৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানেই মাছ ধরছিলেন। ফলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার হওয়া মৎস্যজীবীরা সকলেই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১০ জনের একটি দল পম্বন বন্দর থেকে মাছ ধরতে বেরিয়েছিলেন। তাঁরা শ্রীলঙ্কার কারপিট্টি উপকূলের কাছে মাছ ধরার সময় ধরা পড়েন। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী তাঁদের আটক করে ভেনবুঝা বন্দরে নিয়ে যায়।অন্যদিকে, বাকি ৪ জনের দলটিকে গ্রেপ্তার করা হয় কাচ্চিথিভু দ্বীপের কাছে।
তাঁদের ক্ষেত্রেও অভিযোগ, তাঁরা সীমা লঙ্ঘন করে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন। এই চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কাঙ্গেসান্তুরাই ক্যাম্পে। পাশাপাশি, দুটি মাছধরা নৌকোকেও বাজেয়াপ্ত করেছে শ্রীলঙ্কা।এখনও পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, পূর্বের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ধারণা করা যায় যে ভারত সরকার এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করবে। গত বছর এই সমস্যা নিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন, যাতে শ্রীলঙ্কার জেলে আটক মৎস্যজীবীদের দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছিল।স্ট্যালিন সেই চিঠিতে জানিয়েছিলেন, মৎস্যজীবীদের এই ধরনের পুনরাবৃত্তি হওয়া গ্রেপ্তারি তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও পেশাগত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী এলাকায় থাকা মৎস্যজীবীদের পরিবারগুলির মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বলছেন, “পেটের টানে মাছ ধরতে যাই, কিন্তু রোজকার জীবিকা এখন ভয় নিয়ে শুরু হয়। কখন যে কেউ ধরা পড়ে, আর কখন ফিরে আসা হবে না, সেই আশঙ্কা থেকেই যায়
“স্থানীয়দের মতে, ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো উচিত যাতে এমন মানবিক সংকটের পুনরাবৃত্তি না হয়।ভারত ও শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসীমা নির্ধারণ অনেক আগেই হয়েছে, কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে নৌ সীমার সঠিক জ্ঞান বা প্রযুক্তি সবসময় মৎস্যজীবীদের হাতে থাকে না। এই পরিস্থিতিতে মাছ ধরতে গিয়ে কেউ একটু সীমা অতিক্রম করলেই তাকে আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রসীমা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরিসর বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের GPS প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত, যাতে তাঁরা আন্তর্জাতিক সীমা না অতিক্রম করেন।এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীর দ্রুত মুক্তির জন্য কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যাতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়।সরকার যদি এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে শুধু মৎস্যজীবীদের জীবন নয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে।